শুক্রবার , মে ২৪ ২০১৯

শ্যামনগরে আশ্রয়কেন্দ্রে বৃদ্ধার মৃত্যু


ঘূর্ণিঝড় ‘ফণী’র তাণ্ডব থেকে বাঁচতে সাতক্ষীরার শ্যামনগর উপজেলায় একটি আশ্রয়কেন্দ্রে আশ্রয় নেওয়ার পর অসুস্থ হয়ে এক বৃদ্ধার মৃত্যু হয়েছে।

শনিবার সকালে উপজেলার গাইন বাড়ি আশ্রয়কেন্দ্রে আইনা বিবি মতি (৯২) নামে ওই বৃদ্ধার মৃত্যু হয় বলে সমকালকে নিশ্চিত করেছেন ভারপ্রাপ্ত উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সুজন সরকার।

তিনি জানান, বার্ধক্যজনিত কারণে অসুস্থ আইনা বিবি মতি শনিবার সকালে গাইন বাড়ি আশ্রয়কেন্দ্রে মৃত্যুবরণ করেন। আইনা বিবি মতি গাবুরা ইউনিয়নের কাওসার আলীর স্ত্রী। তিনি শুক্রবার বিকালে গাইন বাড়ি আশ্রয়কেন্দ্রে এসেছিলেন।

এদিকে ঘূর্ণিঝড় ‘ফণী’র প্রভাবে সাতক্ষীরায় শুক্রবার রাত ১২টা থেকে দমকা হাওয়ার সঙ্গে গুঁড়ি গুড়ি বৃষ্টি হচ্ছে। আকাশ মেঘাচ্ছন্ন রয়েছে। এরই মধ্যে পানি উন্নয়ন বোর্ডের সবচেয়ে ঝুঁকিপূর্ণ আশাশুনি উপজেলার খোলপেটুয়া নদীর কুড়িকাউনিয়া, প্রতাপনগর এবং দেবহাটা উপজেলার খানজিয়া নামক স্থানে ইছামতী নদীর বেঁড়িবাধে ভয়াবহ ফাটল দেখা দিয়েছে। এছাড়া শ্যামনগরের গাবুরা ও পদ্মপুকুর বেড়িবাঁধও ঝুঁকির মধ্যে রয়েছে।

জেলা দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কমিটির সভাপতি ও জেলা প্রশাসক এসএম মোস্তফা কামাল জানান, জেলায় ১৬০টি আশ্রয়কেন্দ্রে ১ লাখ ৩২ হাজার মানুষ অবস্থান করছে। প্রস্তুত রাখা হয়েছে ১১৮টি মেডিকেল টিম। জেলায় এখনও ৭ নম্বর সতর্ক সংকেত রয়েছে। জেলার তিনটি ঝুঁকিপূর্ণ উপকুলীয় উপজেলা শ্যামনগর, আশাশুনি ও কালিগঞ্জে সব ধরনের প্রস্তুতি রয়েছে। এছাড়া উপকূলীয় এলাকার জেলে-বাওয়ালীদের পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত নদীতে মাছ ধরা থেকে বিরত থাকতে বলা হয়েছে।

এছাড়া উপকুলীয় উপজেলা এলাকায় ৫ হাজার স্বেচ্ছাসেবক প্রস্তুত রাখা হয়েছে জানিয়ে তিনি বলেন, প্রত্যেক ইউনিয়নে মেডিকেল টিম ও স্বেচ্ছাসেবক টিম প্রস্তুত, ঝুঁকিপূর্ণ বেড়িবাঁধ সংস্কার, শুকনা খাবার মজুদ রাখা, ওষুধের পর্যাপ্ততা নিশ্চিতকরণসহ দুর্যোগ মোকাবেলায় সম্ভাব্য সকল প্রস্তুতি নিশ্চিত করা হয়েছে।

মোস্তফা কামাল আরও জানান, ইতিমধ্যে জেলা ত্রাণ ও পুনর্বাসন কর্মকর্তার অফিসসহ বিভিন্ন উপজেলায় একটি করে নিয়ন্ত্রণ কক্ষ খোলা হয়েছে। এসব উপজেলার প্রতিটি ইউনিয়নে সতর্ক সংকেত হিসাবে লাল পতাকা উত্তোলনসহ মাইকিং করে লোকজনকে নিরাপদ আশ্রয়ে থাকার আহ্বান জানানো হয়েছে। জেলায় দুর্যোগ মোকাবেলায় ২৭ শ’ প্যাকেট শুকনা খাবার, ৩১৬ মেট্রিক টন চাল, ১১ লাখ ৯২ হাজার ৫০০ টাকা, ১১৭ বান টিন, গৃহনির্মাণে ৩ লাখ ৫১ হাজার টাকা ও ৪০ পিস শাড়ি মজুদ আছে।

এছাড়া পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়ার পর্যন্ত জেলার সকল সরকারি কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের কর্ম এলাকায় থাকার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে বলেও জানান তিনি।

শেয়ার