রবিবার , জুলাই ২১ ২০১৯
ব্রেকিং নিউজ

গত ১৯ বছর ধরে রোজ নদী সাঁতরে স্কুলে পড়াতে যান এই শিক্ষক


গত প্রায় ১৯ বছর ধরে নদী সাঁতরে স্কুলে যান এই মানুষটি। না না তিনি পড়াশুনা করতে যান না সেখানে, তিনি যান সেখানকার ছাত্র-ছাত্রীদের পড়াতে। আসলে তিনি একজন স্কুলশিক্ষক। জানলে অবাক হবেন গত ১৯ বছরে তিনি ইংলিশ চ্যানেলের সমান দূরত্ব পেরিয়েছেন! এই শিক্ষকের নাম হল এটি আব্দুল মালিক।

১৯৯২ সাল থেকে এটি আব্দুল মালিক কেরালার মুসলিম লোয়ার প্রাথমিক বিদ্যালয়ে শিক্ষকতা করে আসছেন। এত বছরে তাঁকে এক দিনও স্কুলে অনুপস্থিত থাকতে দেখা যায়নি। কিন্তু এখন একটাই প্রশ্ন এবং সেটা হল, কেন এত বড় নদী পেরিয়ে রোজ স্কুলে যান আব্দুল?

তাঁর বাড়ি থেকে স্কুলে যাওয়ার জন্য দু’টি রাস্তা রয়েছে। একটি রাস্তা থেকে যেতে হলে তাঁকে বাড়ি থেকে বেরিয়ে দু’বার বাস বদল করতে হয়। এর পর বাস থেকে নেমে তাঁকে প্রায় ২ কিলোমিটারের হাঁটতে হয়, যা পেরোতে সময় লাগে অন্তত ৩ ঘণ্টা। আর একটি পথ থেকে স্কুলে যেতে হলে তাঁকে বাড়ি থেকে বেরিয়ে প্রায় ১০ মিনিট হেঁটে স্থানীয় কাদালুন্দিপুঝা নদী পাড়ে যেতে হয়। এর পর সেই নদী সাঁতরে ওপারে উঠে তাঁকে অন্তত মিনিট তিনেক হাঁটতে হয়। ব্যস, তাহলেই তিনি পৌঁছে যান তিনি যে স্কুলে পড়ান সেই মুসলিম লোয়ার প্রাথমিক বিদ্যালয়ে। এই পথটি কম দূরত্বের বলে এটাকেই আব্দুল বেছে নিয়েছেন তাঁর স্কুলে যাওয়ার জন্য। আব্দুল জানিয়েছেন যে, আমি যদি গাড়িতে যাই তাহলে বেশির ভাগ দিনই অমি নির্দিষ্ট সময়ে স্কুলে পৌঁছানো পারিনা। আর তিনি যদি প্রতিদিন নদী সাঁতরে স্কুলে যান তাহলে তাঁর সময় ও অর্থ দুটোই বেচে যায়।

জানেন কি ঠিক কী ভাবে নদী সাঁতরে স্কুলে পড়াতে যান আব্দুল?

তিনি তাঁর জামা-কাপড় আর অন্যান্য জিনিস-পত্র প্লাষ্টিকের ব্যাগে ভরে নিয়ে চোখে একটা ‘ওয়াটার প্রুফ’ চসমা (সাঁতারের বিশেষ চসমা) পরে নেন, তারপর তিনি নদীতে নেমে যান। এক হাতে তিনি ওই সমস্ত জিনিস-পত্র ভরা প্লাষ্টিকের ব্যাগটি মাথার উপর নেন, তারপর এক হাতে তিনি ওই গোটা নদী সাঁতরে পার হন। প্রতিদিন সোম থেকে শনিবার সকালে ৯টা বাজলেই যথাযথ সময়ে কাদালুন্দিপুঝা নদীর পাড়ে পৌঁছে যান আব্দুল মালিক। ১৯ বছর ধরে তিনি এই ভাবেই নদী সাঁতরে স্কুলে যান। তিনি কিন্তু কখনোই অন্য কোনও পেশা বা অন্য কোনও স্কুলে জয়েন করারও কখনও চেষ্টা করেননি। তিনি সাফ জানিয়েছেন যে , আমি মাসে যা স্যালারি পাই, তাতে আমি যথেষ্ট খুশি।

শেয়ার