রবিবার , জুলাই ২১ ২০১৯
ব্রেকিং নিউজ

কিশোর ভ্যানচালক শাহীন হত্যাচেষ্টায় গ্রেপ্তার আরো ৩


সাতক্ষীরায় তালায় কিশোর ভ্যানচালক শাহীনকে হত্যাচেষ্টা মামলায় আরো ৩ আসামিকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। বুধবার ভোর চারটার দিকে যশোরের কেশবপুর উপজেলার সরফাবাদ ও বাজিতপুর থেকে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়।
গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন, কেশবপুরের সরফাবাদ গ্রামের আজিজ মোড়লের ছেলে জাহাঙ্গীর আলম (২৭), একই গ্রামের মৃত জোহর আলী মোড়লের ছেলে নোরিম মোড়ল (৭৮) ও একই উপজেলার বাজিতপুর গ্রামের শওকত আলীর ছেলে আজগর হোসেন (২৬) ।
বুধবার দুপুরে সাতক্ষীরার পুলিশ সুপার সাজ্জাদুর রহমান এক প্রেসব্রিফিংয়ে জানান, শাহিনকে গুরুতর আহত করে ভ্যান ছিনিয়ে নেওয়ার প্রধান হোতা নাঈমুলকে সোমবার গ্রেপ্তার করা হয়। পরদিন মঙ্গলবার দুপুরে আদালতে সে ১৬৪ ধারায় জবানবন্দীতে ধৃত উক্ত তিন আসামি বিষয়ে গুরুত্বপর্ণ তথ্য দেয়। সে তথ্য অনুযায়ী এই তিন আসামিকে গ্রেপ্তার করা হয়। এ মামলার অভিযোগপত্র এক সপ্তাহের মধ্যে আদালতে দাখিল হবে বলেও জানান পুলিশ সুপার।
প্রসঙ্গত,গত শুক্রবার (২৮ জুন) দুপুরে যশোর কেশবপুরের মঙ্গলকোট গ্রামের হায়দার আলী মোড়লের ছেলে কিশোর শাহীনের ভ্যানে যাত্রীবেশে ওঠে দুর্বৃত্তরা। একপর্যায়ে তারা সাতক্ষীরার তালা উপজেলার ধানদিয়ায় রাস্তার দু’পাশের পাট ক্ষেতের নির্জন স্থানে পৌছালে কথিত যাত্রীরা শাহীনের মাথায় আঘাত করে গাড়িটি নিয়ে পালিয়ে যায়। অনেকক্ষণ অচেতন অবস্থায় সেখানে পড়ে থাকে সে। জ্ঞান ফিরলে শাহীনের কান্নার শব্দে স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে পাটকেলঘাটা (প্রশাসনিক) থানায় খবর দেন।
এরপর পুলিশ শাহীনকে উদ্ধার করে খুলনা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করে। তার শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে পরদিন শনিবার (২৯ জুন) উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালে পাঠানো হয়। ঢামেকে রোববার (৩০ জুন) তার চিকিৎসায় গঠিত হয় সাত সদস্যের মেডিকেল বোর্ড। তার আগে ঢামেকে শনিবার রাতেই শাহীনের অস্ত্রোপচার করা হয়। অস্ত্রোপচার শেষে রাত সোয়া ৩টায় তাকে নিবিড় পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রে (আইসিইউ) রাখা হয়। বিষয়টি নিয়ে দেশের বিভিন্ন গণমাধ্যমে ফলাও করে সংবাদ প্রকাশ হলে নজরে আসে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার। তিনি শাহীনের চিকিৎসার তদারকি করছেন বলে জানান ড. অসিত চন্দ্র সরকার। বর্তমানে সে ঢাকা মেডিকেলের আইসিইউতে চিকিৎসাধীন রয়েছে।
এলাকবাসী জানান, শাহীন কেশবপুরের গোলাঘাটা দাখিল মাদ্রাসার সপ্তম শ্রেণীর ছাত্র। শাহীনের বাবা হায়দার আলীর অভাবের সংসার। বসতভিটা ছাড়া তাদের কোনো জমিজমা নেই। সম্প্রতি একটি বেসরকারি সংস্থা (এনজিও) থেকে ঋণ নিয়ে ব্যাটারিচালিত ভ্যানটি কিনে ভাড়ায় চালিয়ে সংসারের হাল ধরে শাহীন। তার রোজগারের টাকায় চলতো সংসার খরচ, ঋণের কিস্তি ও তাদের দু’ভাই-বোনের পড়ালেখার খরচ।

শেয়ার