রবিবার , জুলাই ২১ ২০১৯
ব্রেকিং নিউজ

টাকা ছাড়া রিপোর্ট ছাড়েন না সাতক্ষীরা সিভিল সার্জন অফিসের রিসিপশনিস্ট


টাকা ছাড়া মেডিকেল রিপোর্ট ছাড়েন না সাতক্ষীরা সিভিল সার্জন অফিসের রিসিপশনিস্ট শাহাজান আলী। তিনি ব্যক্তি বিশেষে এক-একটি রিপোর্ট ভিন্ন অঙ্কের টাকা নিয়েই তবে ছাড়েন। সম্প্রতি তার ঘুষ নেওয়ার একটি ভিডিও সংবাদকর্মীদের হাতে আসে। ভিডিওটিতে দেখা যাচ্ছে সাতক্ষীরা সদর উপজেলার আগঁরদাড়ি গ্রামের আবুল হোসেনের ছেলে সাতক্ষীরা সিভিল সার্জন অফিসের রিসিপশনিস্ট শাহাজান আলী এক ব্যক্তির কাছ থেকে ৩ হাজার টাকা ঘুষ গ্রহণ করছেন।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে ঘুষ দেওয়া ওই ব্যক্তি সাতক্ষীরা সরকারি কলেজের দ্বাদশ শ্রেণির এক ছাত্র। নাম প্রকাশ না করার শর্তে ওই কলেজ ছাত্র বলেন, সার্টিফিকেটে জন্ম তারিখ সংশোধন করার জন্য মেডিকেল রিপোর্ট নিতে এসেছিলাম। কিন্তু টাকা ছাড়া রিপোর্ট পেতে ভোগান্তি পোহাতে হবে বলে জানায় রিসিপশনিস্ট শাহাজান আলী। তাই ভোগান্তি এড়াতে তাকে ৩ হাজার টাকা দেয়।

ওই টাকা কোন কোন খাতে ব্যয় হবে তার বর্ণনাও দেন শাহজান। তিনি বলেন, ১৫শ টাকা লিগ্যাল খরচ, ১ হাজার ডাক্তারদের আর ৫শ আমার। এ সময় তিনি মোবাইল ফোনে অজ্ঞাত ব্যক্তিকে বলেন, ‘প্রশাসন আমি দেখব, আর নগদ টাকায় কিনব।’

তাছাড়া তিনি নিজেকে সাতক্ষীরার সিভিল সার্জনের খুব কাছের মানুষ বলেও দাবি করেন। তিনি বলেন, সিভিল সার্জন যদি দুইজন মানুষকে বিশ্বাস করেন তার মধ্যে তিনি একজন। তিনি কোনো এক পুলিশি ঝামেলার কথা উল্লেখ করে সামনের ব্যক্তিদের জানান, ঝামেলায় পড়ে তিনি সিভিল সার্জনকে ফোন করেন। সিভিল সার্জন ডিউটিতে থাকা দারোগার কাছ থেকে তৎকালীন সাতক্ষীরা সদর সার্কেল মেরিনা আক্তারের মোবাইল নাম্বার নিতে বলেন। সিভিল সার্জনকে সদর সার্কেলের নাম্বার দেওয়া হলে তিনি তাকে বলেন তার লোক শাহজানকে যেন স্বসম্মানে বাড়ি পৌঁছে দেওয়া হয়। এরপর পুলিশ কর্তৃপক্ষ তাকে অফিসে পৌঁছে দিয়ে যায়।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে সিভিল সার্জন অফিসে কর্মরত একজন বলেন, বিভিন্ন সময় মেডিকেল রিপোর্টের বিনিময়ে হাজার-হাজার টাকা অবৈধ রোজগার করে শাহাজান।

এ বিষিয়ে সিভিল সার্জন অফিসের  রিসিপশনিস্ট শাহাজানের কাছে জানতে চাইলে তিনি মেডিকেল রিপোর্ট বাবদ টাকা নেওয়ার কথা স্বীকার করেন। অবৈধভাবে টাকা নিয়ে তিনি ভুল করেছেন আর কখনো কারও কাছ থেকে টাকা নিবেন না বলেও প্রতিজ্ঞা করেন।

মেডিকেল রিপোর্টের জন্য অবৈধ টাকা লেনদেনের বিষয়ে জানতে চাইলে সাতক্ষীরার সিভিল সার্জন রফিকুল ইসলাম বলেন, আমি আগে কখনো শুনিনি শাহাজান মেডিকেল সার্টিফিকেটের জন্য কারও কাছ থেকে টাকা নিয়েছে। তাছাড়া আমার কাছে কেউ মৌখিক কিংবা লিখিত অভিযোগ দেয়নি।

এ বিষয়ে সিভিল সার্জন অফিসের  রিসিপশনিস্টের একটি গোপন ভিডিও প্রকাশ পায়। ভিডিওর ব্যাপারে তাকে প্রশ্ন করলে তিনি বলেন, ভিডিওর ব্যাপারে শুনেছি তবে দেখিনি। যাদের কাছ থেকে টাকা নিয়েছে তারা যদি অভিযোগ করে তবে শাহাজানের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ করতে সুবিধা হবে।

শেয়ার