শুক্রবার , মে ২৪ ২০১৯

একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন


অনলাইন ডেস্কঃ বাংলাদেশে প্রায় বিশ হাজার লোক জনপ্রতিনিধি হওয়ার স্বপ্নে রাজনীতি করে কিন্তু আসন সংখ্যা মাত্র তিনশ। রাজনীতি ও নির্বাচনের আড়ালে তো টাকার যুদ্ধ আছেই। বর্তমানে প্রায় দু-শতাধিক রাজনৈতিক দল মাঠে রয়েছে। তাদের মধ্যে কোনকোন দল সরকার গঠনের স্বপ্নে বিমূঢ়। এর ভিতর প্রায় রাজনৈতিক দলের নির্বাচন কমিশন কর্তৃক নিবন্ধন নাই। মহাজোট ও ২০দলীয় জোটে আছে এমন দলেরও অনেক নেতা আরো একটু বেশী সুযোগ সুবিধার জন্য এদের সাথে এদিক সেদিক দৌড়াদৌড়ী করতে দেখা যায়।

মাঠে থাকা রাজনৈতিক দলগুলোর নেতারা সংসদের যাওয়ার জন্য উদগ্রীব। মান্না গংদের গুটিকয়েক দল ছাড়া বাকী সবকয়টি দল পৃথক জোট করে নির্বাচন করার ইচ্ছা।তাই এসকল দলের নেতারা মুক্তিযুদ্ধের চেতনা বাস্তবায়নে বঙ্গবন্ধুর সোনার বাংলাদেশ বিনির্মাণের স্বার্থে আওয়ামী লীগের সভানেত্রী বঙ্গকন্যা মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সুদৃষ্টির আশাবাদী।দলগুলোর শীর্ষ নেতৃবৃন্দ মনেপ্রাণে এয়ো চান যে একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন বর্তমান সংবিধান অনুযায়ী অনুষ্ঠিত হোক।

১৪ দলীয় জোট বা মহাজোটের সাথে যেকয়টি রাজনৈতিক দল রয়েছে এর বাহিরে নতুন করে আরো কোন দলকে জোটে সম্পৃক্ত করার শীর্ষ পর্যায়ের কোন সিদ্ধান্ত আছে কিনা তা অস্পষ্ট।তবে ১৪ দলীয় জোটের সমন্বয়কারী সাথে জোটের বাহিরে থাকা সমমনা কিছুসংখ্যক দলের সাথে প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে আলোচনা করতে দেখা যায়।

বাংলাদেশের একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের ব্যাপারে দেশ ও দেশের বাহিরের স্বচেতন মানুষের আকাঙ্ক্ষা হচ্ছে সকল দলের অংশগ্রহণ মূলক স্বচ্ছ সুষ্ঠু নিরপেক্ষ নির্বাচন।জোটবদ্ধ নির্বাচন হলে বহুদলের অংশগ্রহণ মূলক নির্বাচন শব্দটি কতটুকু স্বতন্ত্রীয়তা পায় তাও দেখার বিষয় রয়েছে।এছাড়াও মুক্তিযুদ্ধের চেতনার আদর্শিক দলগুলো। বিশেষ করে ১৪ দলীয় জোট ধর্মভিত্তিক রাজনৈতিক দলগুলো বিএনপির সাথে ২০দলীয় জোটে থাকা অবস্থায় ১৪দলীয় জোটের বাহিরে গিয়ে কোন দল জাতীয় নির্বাচন করবে এ বিষয়ে ভাববার কোন অবকাশ নাই।

ধর্মভিত্তিক ও ধর্মীয়মূল্যবোধের লেবেল লাগানো বাংলাদেশী জাতীয়তাবাদে বিশ্বাসী ২০দলীয় জোট এর বাহিরে থাকা কোন রাজনৈতিক দলও বিএনপির সাথে জোটে গিয়ে নির্বাচন করবে বা করতে চায় ইহা বলা পাগলের প্রলেপ ছাড়া আর কিছুই না।হ্যাঁ তবে মান্নাগংদের জাতীয় নির্বাচনের বিষয়ে বিএনপির সাথে গোপনীয় কৌশল অথাবা আওয়ামী লীগ বিরোধী কোন চক্রান্ত হয়ত থাকতে পারে।যা ফখরুলের সরকারবিরোধী ঐক্যের ডাকের মধ্যে অনেকটা ইঙ্গিত পাওয়া যায়।

একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন কে স্বচ্ছ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ ও সকল রাজনৈতিক দলের অংশগ্রহণ সুনিশ্চিত করার লক্ষে সরকারের উচিৎ হবে মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় বিশ্বাসী সকল রাজনৈতিক দল কে জাতীয় নির্বাচনে অংশগ্রহণের মাধ্যমে যেন নির্বাচনী প্রতিযোগীতা করতে পারে সে বিষয় সহযোগীতা প্রদান করা এবং স্বাধীনতাবিরোধী দল,ব্যক্তি ও তাদের দোসর যেন নির্বাচনে অংশগ্রহণ করতে না পারে সে বিষয়ে দ্রুত আইনি প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা।

সুতারং রাজনৈতিক দলগুলো বহমান এসকল তৎপতায় প্রমাণ করে যে বাংলাদেশের গণতন্ত্র অত্যন্ত শক্তিশালী এবং গণতন্ত্র চর্চায় কোন ধরণের বাঁধা বিঘ্নতা নাই।তবে বিএনপি নামক রাজনৈতিক দলটির কথা সম্পূর্ণ ভিন্ন।কারণ এই দলটির জম্মই হয়েছে স্বাধীনতাবিরোধী অপশক্তিকে রাজনৈতিক ও সামাজিকভাবে পৃষ্ঠপোষকতা দেওয়ার জন্য এবং করেও যাচ্ছে তা।বিএনপি নির্বাচনে আসলেই নির্বাচন গ্রহণযোগ্য হবে তা ভাববার কোন যৌক্তিক কারণ আছে বলে মনে হয়না।ইতিমধ্যে বিএনপি গঠনতন্ত্র পরিবর্তন করে দুর্নীবাজ দল হিসেবে আত্মস্বীকৃতি লাভ করেছে।

অতএব একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ২০১৮ এর দামামা বাজছে সর্বত্রে শুধু সময়ের অপেক্ষা মাত্র।মু্ক্তিযুদ্ধের চেতনা পরিপন্থী স্বাধীনতাবিরোধী অপশক্তিকে রাজনীতি ও নির্বাচন করার সুযোগ করে দিলেই গণতন্ত্র চর্চা হয় আর তা করতে না পারলে গণতন্ত্রকে গলাটিপে হত্যার অভিযোগ।যারা এমন ধরণের বলে ধরে নিতে হবে নিশ্চিত ওরা একাত্তরে পরাজিত ঘাতকদের পেতাত্মা এবং দেশ ও দেশের গণমানুষের শত্রু।আমার দৃষ্টিতে একদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন আর একটি মুক্তিযুদ্ধ।দেশের উন্নয়নের ধারা ও মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় সোনার বাংলাদেশ বিনির্মাণের অগ্রযাত্রা অব্যাহত থাকবে কী থাকবেনা একাদশ জাতীয় নির্বাচনের উপর সম্পূর্ণ নির্ভর করে।আর এ ধারাকে চলমান রাখতে সংবিধানের আলোকে কিভাবে একাদশ সংসদ নির্বাচন করা যায় সে সিদ্ধান্ত নেওয়ার মূল দায়িত্ব ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ তথা ১৪ দলীয় জোটের শীর্ষ নেতাদের।

মুফতী মাসুম বিল্লাহ নাফিয়ী
সদস্য, কেন্দ্রীয় ধর্ম বিষয়ক উপ-কমিটি, বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ।

শেয়ার